Update News
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। রোগের শুরুতে এটি অনেকটা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হয়, তাই অনেক সময় প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব পায় না।
প্রথম দিকে হালকা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। কারও কারও চোখে আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। এই অবস্থাটি সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতো মনে হলেও, ধীরে ধীরে জ্বর বাড়তে থাকে এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা দিতে পারে, যা হাম রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
কয়েক দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এটি সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে গলা, বুক, পিঠ হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় জ্বর তুলনামূলক বেশি থাকে এবং শরীর দুর্বল লাগে।
কিছু ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। যেমন—উচ্চ জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খাওয়ায় অনীহা, খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে। জ্বর কয়েকদিন ধরে থাকলে, ফুসকুড়ি ওঠার পরও জ্বর না কমলে বা কাশি ও শ্বাসকষ্ট বাড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সংক্রমণ ছড়ানো কমাতে সাহায্য করে।